Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

রেজিস্ট্রারের ‘গড়িমসি’ / ভোটার তালিকার কারণে আটকে গেল ব্রাকসুর মনোনয়ন বিতরণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৪২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৩২

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। রেজিস্ট্রার অফিস নির্ধারিত সময়ে হলভিত্তিক ভোটার তালিকা, আচরণবিধি ও নির্বাচনি নীতিমালা সরবরাহ না করায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং ২৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে শনিবার (২৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রেজিস্ট্রারের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং বিলম্বের পূর্ণ দায় প্রশাসনের ওপর চাপিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কমিশনের পাঁচ সদস্যের (মো. আমির শরীফ, মো. মাসুদ রানা, ড. প্রদীপ কুমার সরকার, ড. মোহসীনা আহসান ও মো. হাসান আলী) সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “একাধিকবার লিখিতপত্র ও মৌখিক অনুরোধের পরও রেজিস্ট্রার অফিস নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্যনথি সরবরাহ করেনি। ফলে তফসিলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বিঘ্ন ঘটেছে। গণমাধ্যমে রেজিস্ট্রারের ‘তথ্য দেওয়া হয়েছে’ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচার নির্বাচন কমিশনকে হেয় করার প্রয়াস এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতি অশ্রদ্ধা।”

কমিশন আরও জানিয়েছে, বিলম্বের প্রমাণ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং প্রশাসনের অসহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ২৪ ডিসেম্বরের ভোটগ্রহণও বিঘ্নিত হতে পারে—যার দায় পুরোপুরি বিলম্বকারী দফতরের।

এর আগে গতকাল কয়েকটি গণমাধ্যমে রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ দাবি করেন, ‘কমিশন চাওয়া মাত্রই হলভিত্তিক তালিকা দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু কমিশনের পাঁচ সদস্যের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রসংসদ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন-অনশন করে আসা শিক্ষার্থীরা এখন ফের উত্তেজিত। ছাত্রনেতা রাহাত হোসেন বলেন, ‘যে প্রশাসন নিজেই নিয়ম ভেঙে রেজিস্ট্রার নিয়োগ করে, তার কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করাটাই ভুল ছিল। এটা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র।’

সিইসি বিভাগের শিক্ষার্থী হিমু ইসলাম বলেন, ‘প্রধান কমিশনার পদত্যাগ, শীতের ছুটি বদল, র‍্যাগিংয়ের শাস্তি—সবকিছুতেই প্রশাসনের খামখেয়ালি। এবার সরাসরি নির্বাচন আটকানো হচ্ছে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুজহাত জাহান নিপা বলেন, ‘আমরা আবার রাস্তায় নামব। ২৪ ডিসেম্বরের ভোট যেকোনো মূল্যে হতে হবে।’

এর আগে গত ২২ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৬ নভেম্বর প্রকাশের কথা থাকলেও তা আটকে আছে। এছাড়া মনোনয়ন বিতরণ ২৭ নভেম্বর বিতরণের কথা থাকলেও তা না হওয়ায় আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ভোটগ্রহণ ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের পর যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবি উঠেছিল, তা এখন প্রশাসনের ‘অসহযোগিতা’র কাছে জিম্মি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার অফিস সহযোগিতা না করলে নতুন তফসিল ঘোষণা বা ভোট স্থগিতের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর