Tuesday 28 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

সংরক্ষিত নারী আসন / বিএনপির মনোনয়নের ভিড়ে বাদ পড়লেন যেসব হেভিওয়েট নেত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪৬

ঢাকা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া এবং দলীয় হাইকমান্ডের নিবিড় পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলের প্রতি নিষ্ঠাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দলের চূড়ান্ত এই তালিকায় নতুন অনেক মুখের সমাগম ঘটলেও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী ও পরিচিত ব্যক্তিত্বের বাদ পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। এছাড়াও শোবিজ অঙ্গন থেকে রাজনীতির মাঠে আসা আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, বেবি নাজনীন এবং অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের নাম তালিকায় না থাকায় দলের তৃণমূল ও সাধারণ কর্মী মহলে নানামুখী গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড সারা দেশ থেকে আসা ৫৪৫ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার নেন। মনোনয়ন বোর্ডে প্রার্থীরা দলের জন্য অতীতে কী ধরণের ভূমিকা পালন করেছেন এবং রাজপথে তাদের সক্রিয়তা কেমন ছিল, তা যাচাই করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর দলের নীতি-নির্ধারকরা এই ৩৬ জনকে চূড়ান্ত করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই তালিকায় নতুন ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে। হেভিওয়েট নেত্রীদের বাদ দেওয়াকে অনেকে দলের অভ্যন্তরীণ নতুন সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, বিএনপি এবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এবং রাজপথের ত্যাগী নেতাদের সামনে নিয়ে এসে নির্বাচনি রাজনীতিতে একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে। দলের ভেতরে থাকা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধিত্বে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

তালিকা ঘোষণার পর থেকেই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে একদিকে যেমন নতুনদের নিয়ে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে আলোচিতদের বাদ পড়া নিয়ে দলের ভেতরে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর