Thursday 30 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

টাঙ্গাইলে একটি স্থায়ী সেতুর প্রতীক্ষায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুন ২০২৬ ১৫:১৩

জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে সেই কাঠের সাঁকো।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের বাসাইল ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্তে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু চায় ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও খাটরা গ্রামের এই ঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মিত হয়নি। এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে নির্মিত জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকোটিই এখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম, যা বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইলের ফুলকি, খাটরা, বল্লা, কাজিপুর এবং কালিহাতীর রামপুর, গান্ধিনা, তেজপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সহজ পথ এটি। প্রায় ১২ বছর আগে সরকারি উদ্যোগ না পেয়ে গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে সাঁকোটির খুঁটি ও তক্তা পঁচে গিয়ে চরম বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ এই সাঁকো দিয়ে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন। এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল। নদীর দুই পাড়েই রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। প্রতিদিন শত-শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পা পিছলে নদীতে পড়ে বই-খাতা ভিজিয়ে ফেলছে। এ ছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর অনেক এমপি এল-গেল, কেউ এই সেতুটা করে দিল না। নির্বাচন এলে সবাই কথা দেয়, ভোট হয়ে গেলে আর খোঁজ থাকে না।’

অটোরিকশাচালক আজমত আলী বলেন, ‘একবার তক্তা ভেঙে আমার গাড়ি নিচে পড়ে গেছিল; প্রতিনিয়ত জীবন হাতে নিয়ে এই পথে গাড়ি চালাই।’

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘খাটরা সেতুটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্পের প্রথম দিকের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি শুরু হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘লাঙ্গুলিয়া নদীর এই অংশে সেতু নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওই প্রকল্প শুরু করতে দেরি হলে অন্য প্রকল্প থেকে এটি নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর