Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কার’

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০২ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫২

নিরাপত্তার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি শোনেনি আইসিসি। বাংলাদেশও তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। যাতে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভূক্ত করে নতুন সূচি দিয়েছে আইসিসি। এদিকে, বিশ্বকাপের মতো আসরে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কার, এমন কথা বলেছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউসিএ। বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বলেছেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকাটা দুঃখজনক।

টম মোফাট বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য এক দুঃখজনক মুহূর্ত। এ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। ক্রিকেট তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী, যখন প্রতিটি দল ও প্রতিটি খেলোয়াড়কে সম্মান করা হয়, যথাযথ ও ধারাবাহিক সমর্থন দেওয়া হয় এবং ন্যায্য শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত থাকে। সব দলের অংশগ্রহণ ও অবদানে টুর্নামেন্ট সফল হলেই খেলাটির সেরা রূপ দেখা যায়।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে সম্প্রতি যা হচ্ছে তা নিয়ে এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউসিএ। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে খেলাটিতে কিছু বড় ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে চুক্তিকে সম্মান না করা, অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া এবং খেলোয়াড় ও তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার অভাব। এসব বিষয় মানুষের প্রতি এক ধরনের অবহেলার ইঙ্গিত দেয়, যা ক্রিকেটে থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে খেলাটির বর্তমান পরিচালন কাঠামোর গুরুতর সমস্যাগুলোকেও সামনে আনে। এসব সমস্যা যদি উপেক্ষিতই থেকে যায়, তবে আস্থা, ঐক্য এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় খেলাটির সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ দুর্বল হয়ে পড়বে।’

ক্রিকেটের স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মুহূর্তটি ক্রিকেটের জন্য আত্মপর্যালোচনার একটি সুযোগ। বিভাজন বা বর্জনকে জায়গা না দিয়ে আমরা খেলাটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই—শাসন সংস্থা, লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে খেলাটিকে ঐক্যবদ্ধ করুন। খেলাটির দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য ও সাফল্যের যৌথ স্বার্থেই বিভক্তি দূর করুন। বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড় ও তাঁদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আমরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ হারানো বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও তাঁদের সংগঠন (কোয়াব)-এর প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখছি। একই সঙ্গে বিসিবি ও অন্যান্য সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও বিকশিত করার প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর