Tuesday 28 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

রামুতে বনভূমি দখল-প্লট বিক্রির অভিযোগ, উচ্ছেদে বাধার মুখে বন বিভাগ

মো. নেজাম উদ্দিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩৬

বনভূমি উচ্ছেদ করে চলছে প্লট বাণিজ্য।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর এলাকায় বন বিভাগের জমি দখল, বনের গাছ কেটে সাবাড় এবং অবৈধভাবে প্লট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

মেহেরঘোনা রেঞ্জের কালিরছড়া বিটের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বনের জায়গা লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে বনের জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছেন মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও তার দল।

টাকার বিনিময়ে বনের জমি দখল দিচ্ছে

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিরছড়া বিটের পূর্ব কাদেমরপাড়া নামক স্থানে বনের জায়গা দখল করে চলছে ঘরবাড়ি নির্মাণের হিড়িক। আর এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং কালিরছড়া বিটের বিট কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ এবং স্থানীয় হেডম্যান হাফেজ আহমদ।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নতুন বাড়ি বা স্থাপনা বসানোর জন্য এই চক্রটি দখলদারদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। বনের এই জায়গা বিক্রি ও পাহারার কাজে স্থানীয় সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে কৃষকদল নেতা নজির আহমদের ছেলে তাহের ও কবির আহমদের ছেলে মনজুর আলম, মফিজুর রহমানের ছেলে আমানুসহ আরও বেশ কয়েকজন। দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটটি সামাজিক বনায়ন ও সুফল বনায়নের গাছ কেটে বনভূমি ফাঁকা করছে এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরছেন। প্রশাসন বিষয়টি জানলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৩ হেক্টর বাগান দখল করে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে কথার ছলে দখলদার বদিউল আলমের স্ত্রী জানান, বনের জায়গায় ঘর করতে হেডম্যান হাফেজকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও টাকা দিতে হয়। ঠিক তেমনিভাবে আরও যারা ঘর করেছে তাদের কাছ থেকে হেডম্যান হাফেজ টাকা নিয়েছে বলে জানা যায়। আর সে টাকার ভাগ বিট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে আরও অনেকেইে পেয়েছেন।

এদিকে এই বিষয়ে জানতে কালিছড়া বিট কর্মকর্তা আব্দুস সামাদকে বেশ কয়েকবার ফোন ও হোয়াটস আপে মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

উচ্ছেদ অভিযানে বাধা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নাজেহাল

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফক হোসেনকে বনের জমি বিক্রির এই অনিয়ম ও দখলের বিষয়টি অবহিত করেন স্থানীয়রা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএফও মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল কালিরছড়া বিটের পূর্ব কাদেমরপাড়া এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছামাত্রই স্থানীয় সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা ও অবৈধ দখলদাররা উচ্ছেদ কাজে বাধা সৃষ্টি করে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কৃষকদল নেতা তাহের ও তার সঙ্গীরা অবৈধ দখলদারদের উস্কে দিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাকে নাজেহাল করে। একপর্যায়ে অবৈধ দখলদার বদিউল আলম, তার স্ত্রী আরেফা বেগম এবং শামশুল আলমসহ একদল লোক লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বন কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন বিভাগের টিম পিছু হটতে বাধ্য হয়।

মেহেরঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন জানান, আমরা গত বৃহস্পতিবারে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় কিছু নেতাদের মাধ্যমে আমাদের অভিযানে বাধা দেয় যার কারণে আমরা পুরো অভিযান পরিচালনা করতে পারিনি। যারা অভিযানে বাধা দিয়েছে আর যারা অবৈধ দখলদার তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ডিএফও মো. মারুফ হোসেন জানান, অবৈধ দখলদাদের কোন ছাড় নেই তাদের উচ্ছেদ করা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিরছড়া বিট ও মাছুয়াখালী বিট

এই উপকূলীয় ও পাহাড়ি বিটগুলোতে সামাজিক বনায়ন এবং সুফল প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় দরিদ্র বা ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী, বনের জমি দখলদার এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে তালিকাভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। বনের সংরক্ষিত জমি জবরদখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন বা ব্যক্তিগত রাবার বাগান ও পানের বরজ তৈরিতে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে পরোক্ষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল হওয়ার সুযোগ নিয়ে রাতের আধারে আকাশমণি, বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির গাছ কেটে পাচার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিট অফিসের অপর্যাপ্ত টহল বা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের গাছচোর সিন্ডিকেটের সঙ্গে পরোক্ষ যোগসাজশের কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে সরকারি রেকর্ড বা মাস্টাররোলে চারা রোপণ ও বাগান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি ব্যয় না করে নিম্নমানের চারা রোপণের মাধ্যমে বাজেট আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে এই রেঞ্জের বিরুদ্ধে।দখল

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর