Monday 27 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী কমার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩৭

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

ঢাকা: এসএসসি পাসের পর এইচএসসি ও সমমানে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি- তিন ধারার শিক্ষাতেই পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে এসএসসি পাসের পর স্বাভাবিকভাবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হতো না বা ঝরে পড়ত। তবে এবার সেই হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, কারিগরি শিক্ষায় প্রায় ৫৪ শতাংশ, মাদরাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষায় প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কেন এতসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা করা হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, অভিভাবকদের ভূমিকা, টেস্ট পরীক্ষার পদ্ধতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সবকিছুই পর্যালোচনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের হার ধরে রাখতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখিয়ে মূল পরীক্ষায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষাক্রমের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরীক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অতীতের মতো প্রশ্নফাঁস, জিপিএ বাণিজ্য কিংবা অনিয়মের সুযোগ এখন আর নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। আদালতের রায়ের পর নিয়োগে আর কোনো বাধা নেই। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় রিকুইজিশন সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন নিয়োগসংক্রান্ত প্রায় ৩০০টি মামলা পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগসংক্রান্ত মামলাগুলোরও দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। আদালতের অনুমতি মিললে এসব নিয়োগের সাক্ষাৎকার দ্রুত শুরু করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনের ফলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালতের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার সমাধান হয়েছে এবং শিক্ষা খাতের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর