Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

রামিসা হত্যা মামলার রায়ে আসামি সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসির আদেশ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ জুন ২০২৬ ১১:৪৪ | আপডেট: ৭ জুন ২০২৬ ১৫:৩৬

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেলা রানা ও স্বপ্না আক্তার। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত এই মামলার বিচার কার্যক্রম মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় তা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারাগার থেকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই আদালতের এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অংশ পাঠ শুরু করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন কৌশলে তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে।

রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে সোহেলের বাসার সামনে তার জুতা দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতা ও লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে মাত্র চার দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়।

গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৪ জুন আদালত রায়ের জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। অবশেষে বহুল আলোচিত এই মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

সারাবাংলা/জিএস/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর