Friday 31 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই: রিজভী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৯ | আপডেট: ২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩০

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকা: বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা না থাকলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা, লুটপাট এবং অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিদেশি বা আধিপত্যবাদী শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখতে পারলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে গ্রাস করতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাকে বারবার দমনের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই মানুষ সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি ভিয়েতনামের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, একটি জাতি কীভাবে দীর্ঘ বিদেশি শাসন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে, তা শিক্ষণীয়।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নানা সময়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে। কখনো এটিকে শুধু ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়, অথচ প্রকৃত সত্য হলো এটি ছিল বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের যুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ভেতর থেকেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উঠে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার সব অবদান একটি পরিবার বা একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে উপস্থাপন করার প্রবণতা জাতির আত্মাকে কলুষিত করেছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস তাদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা না হলেও এখন তারা সত্য বুঝতে পারছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন। তার মতে, তারুণ্যের ধর্মই হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেলেই একটি জাতি পূর্ণ স্বাধীন হয় না; নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, ভোটাধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতার বিষয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার করলে বিভাজন চরমে পৌঁছাবে এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র উভয়েরই অধঃপতন হবে। তিনি মেধা ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রশাসন গড়ার তাগিদ দেন।

রিজভী আরও বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। যাঁর যেখানে অবদান, সেই সঠিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত ইতিহাস রচনা করা প্রয়োজন।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর