Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

রংপুরে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ, দুর্ভোগে চালকরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৫

রংপুর: বিভাগীয় নগরী রংপুরে হাতে গোনা কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ছাড়া অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সরবরাহ শূন্য। মালিকরা ‘জ্বালানি তেল নেই’ লিখে নোটিশ টানিয়ে দিয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) নগরীর অর্ধশতাধিক পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, কোনো স্টেশনেই তেল মিলছে না। ফলে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন, অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে চালকদের চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

নগরীর বড় পাম্পগুলোর একটি শাপলা চত্বরের মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সসহ অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রয়েছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ডিপো থেকে কোনো জ্বালানি সরবরাহ হয়নি। ট্যাংক-লরিগুলো দুই দিন ধরে ডিপোতে অপেক্ষা করছে, কিন্তু কবে সরবরাহ হবে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল আরোহীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, দুই দিন ধরে তেল না পাওয়ায় যানবাহন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকার বলছে তেল আছে, কিন্তু বাস্তবে কোথাও মিলছে না—এটা প্রচারণা ছাড়া আর কিছু নয়। অনেকে মোটরসাইকেল ঠেলে ঠেলে পাম্পে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন।

সূত্র জানায়, সংকটের মূলে রয়েছে পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ডিপোগুলোতে সরবরাহের তীব্র ঘাটতি। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, দৈনিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। উত্তরের পাঁচ জেলা—রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে একই চিত্র। অনেক জায়গায় মাত্র কয়েকটি পাম্প সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছে, বাকিগুলো বন্ধ।

এদিকে, জেলা প্রশাসন কৃত্রিম সংকট রোধে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি পাম্পকে জরিমানা করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ না বাড়ায় সংকট অব্যাহত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরীর ব্যাংকের মোড়, সিওবাজার, ঢাকা-রংপুর হাইওয়ের পলাশবাড়ী থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত অধিকাংশ পাম্প বন্ধ। যে কয়েকটি খোলা আছে, সেখানে শুধু সীমিত পরিমাণে ডিজেল ও পেট্রোল মিলছে—একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পেট্রোল ও ৫০০ টাকার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ লাইন, ক্ষোভ ও উত্তেজনা। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের পাম্পগুলোতে প্রায় সব ধরনের জ্বালানি শূন্য।

গঙ্গাচড়া উপজেলার শিহাব, শাহ আলম, মিম ও অন্যান্য পাম্পের সামনে দড়ি টানা, তালা ঝুলছে। বুড়িরহাট এলাকার মিম ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে হতাশ সাকিব আল হাসান বলেন, ‘তেল শেষ, হেঁটে হেঁটে এসেছি। পাম্পে কিছু নেই, বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হবে।’

শাহ আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে শাহীন আলম জানান, ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছি। মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরবো বলে পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কোথাও পেট্রোল পাচ্ছি না এটা অসহ্য ভোগান্তি।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের আনুর বাজারে আজিবর রহমান ও বেতগাড়ির আব্দুল খালেকের মতো অনেকেই পাম্প ঘুরে খালি হাতে ফিরে খোলাবাজার থেকে ২০০-২৫০ টাকা লিটারে পেট্রোল কিনেছেন। পীরগাছা উপজেলার আমিরুল ইসলামও একই অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মহসিন বলেন, ‘ডিপো থেকে জ্বালানি না পাওয়ায় তেল বিক্রি করতে পারছি না। জেলার হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।’

মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারুফুল ইসলাম সিফাত বলেন, ‘ঈদের মার্কেটে দৈনিক ২০ হাজার লিটার লাগবে, কিন্তু আজ ডিজেলও পাইনি। মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় পাম্ব বন্ধ রাখা হয়েছে।’

মিঠাপুকুর উপজেলার সঞ্চিতা ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী টিটুল জানান, ২০০-৩০০ টাকার তেল দিচ্ছি, অনেকে রাগারাগি করছে আমাদের করার কিছু নেই।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর