Friday 31 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

তিস্তা সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক একর জমি প্লাবিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৩ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৭

প্লাবিত ফসলি জমি।

নীলফামারী: নীলফামারীতে তিস্তা সেচ ক্যানেলের দিনাজপুর খালের বাম তীরের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় দিনাজপুর ক্যানেলের বাম পাড়ের তীর বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে গেলে ক্যানেলের পানি আশপাশের জমিতে ঢুকে পড়ে।

ভাঙনের ফলে ক্যানেলের পাশের অন্তত শতাধিক একর জমির সরিষা, বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন রবি শস্য পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বাঁধ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ওই ক্যানেল সংলগ্ন এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, চলতি বোরো মৌসুমের (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে ১৫ জানুয়ারি হতে পানি দেয়া শুরু হয়। ওই সেচের পানি পেয়ে তিস্তার কমান্ড এলাকার দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারে কৃষকরা বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে চারা রোপণ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলে সেচ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ক্যানেলের ডান তীর বাঁধ ভেঙে আমার জমিসহ আসে পাশের অন্তত শতাধিক একর জমিতে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে।

ওই এলাকার কৃষক শরিফ ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, এর আগে ২০১৫ ও ২০২৪ সালেও ক্যানেলের বাঁধ বিধ্বস্থ হয়েছিল। এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা ওই এলাকার নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়কটি অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। সেখানে নীলফামারীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান গেলে তাকে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।

সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে রয়েছে। সেই সঙ্গে এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমি লাগানো আলুর ক্ষেতেও শেষ। একই গ্রামের কৃষক রজব আলী জানান, ঘটনার পর পরই নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন করা হয়। তিনি বলেন কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নামমাত্র সংস্কার করে ক্যানেল। এতে ক্যানেলের পাড় ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনিসহ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, যতদুর ধারণা ওই স্থানে ঈঁদুরের গর্তের সৃষ্টি ছিল। সেচের জন্য ক্যানেলে পানি ছাড়ায় ঈঁদুরের গর্তের কারণে ক্যানেলে তীর বা পাড় ২০ ফিট বিধ্বস্থ হয়েছে। তিনি বলেন যেহেতু সেচ নির্ভর বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। আমরা দ্রুত বিধ্বস্থ স্থানটি মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারবো। তবে দিনাজপুর ক্যানেলে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও সেচ প্রকল্পের রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে চলতি খরিপ-১ এক বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ১৫ জানুয়ারি হতে শুরু হয়। এতে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। এর মধ্যে নীলফামারী জেলার ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর ও দিনাজপুর জেলার ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ পাবে। সূত্রমতে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কমান্ড এলাকায় টানা মে মাস পর্যন্ত ৫ মাস বোরো ও রবি মৌসুমের জন্য কৃষকরা তিস্তার সেচ পাবেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর