Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪০ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৬

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যারা তার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হবে না, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।’

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। যদি দেশগুলো আমাদের সঙ্গে না আসে, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি।’ তবে কোন কোন দেশ এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে বা কী আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপ করা হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

বিজ্ঞাপন

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজনীতিক ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময়ই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত ১১ সদস্যের একটি কংগ্রেসনাল প্রতিনিধি দল গ্রিনল্যান্ড সফরে ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের নেতা ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং পরিস্থিতির উত্তেজনা কমানো।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র সহজ পথে অথবা কঠিন পথে গ্রিনল্যান্ড পেতে পারে যা দ্বীপটি কেনা অথবা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড জনসংখ্যায় কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা এবং আর্কটিক অঞ্চলের নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে পিটুফিক সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে।

ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় গ্রিনল্যান্ডকে সঠিকভাবে রক্ষা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের এর মালিকানা প্রয়োজন।

ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে পড়বে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বলেছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে সীমিত সংখ্যক সেনা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডে একটি পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর