Sunday 26 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘নিষ্ক্রিয়’ কর্মী, ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ!

শামীম সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুন ২০২৬ ২২:১১ | আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৮:২১

রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি জুবায়ের রশীদ ও পদত্যাগী সহ-সভাপতি সামিউল ইসলাম শিমুল। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

রাজশাহী: রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ। তার ছেলে জুবায়ের রশীদ রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। বাবার প্রভাব খাঁটিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকেও ছাত্রদলের সুপার কমিটির পদ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জুবায়ের বিরুদ্ধে।

এদিকে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া হাইব্রিডদের পদায়নের অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন আরেক নেতা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রাম বুক চেতিয়ে লড়াইয়ের পরেও লবিংয়ের অভাবে পদবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ একাধিক কর্মীর।

গত ১৮ জুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী কলেজ শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মো. আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে জুবায়ের রশীদ, সহ-সভাপতি হিসেবে সামিউল ইসলাম শিমুল, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাশেকুজ্জামান প্রীতম, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ নূর মোহাম্মদ ইমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নেহাল আহমেদ রায়হানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর-পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় বির্তক ও সমালোচনার ঝড়। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদের ছেলে জুবায়ের রশীদ এই কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ পাওয়ায় পারিবারিক আধিপত্য, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, নিষ্ক্রিয় ও গণঅভ্যুত্থানের পরে রাজনীতিতে আসা কর্মীদের পদায়নের অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন এই কমিটির আরেক সহ-সভাপতি সামিউল ইসলাম শিমুল। অন্যদিকে একাধিক পদবঞ্চিত নেতাকর্মী দিয়েছেন কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।

এ বিষয়ে পদত্যাগ করা ছাত্রনেতা সামিউল ইসলাম শিমুল সারাবাংলাকে বলেন, ‘সম্মুখ সারিতে যারা বিগত সময়ে যুদ্ধ করেছে, তাদের নবগঠিত কমিটিতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অনেককে পদেই রাখা হয়নি। আবার জুনিয়র ও ৫ আগস্টের পরে যারা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে তাদের বড় পদ দেওয়া হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পদ না দেওয়ায় এবং অবমূল্যায়নের স্বীকার হওয়াই আমি পদত্যাগ পত্র কেন্দ্রে পাঠিয়েছি।’

নিষ্ক্রিয় ও অপরিচিত মুখ থেকেও আংশিক কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না তাদের পদায়ন করা হয়েছে। পারিবারিক আধিপত্য বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। অথচ আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।’ পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে সেটা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। তবে পরিকল্পনা চলছে।’

অপরদিকে পদবঞ্চিত নেতা মো. রুহুল আমীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়নি। হাইব্রিড ও সুসময়ে রাজনীতিতে আসা ছাত্ররা পেয়েছেন বড় বড় পদ। আন্দোলন-সংগ্রামে বুকচিতিয়ে সামনের সারিতে থাকা ত্যাগী কর্মীদের কোনো মূল্যয়ন করেনি সংশ্লিষ্টরা।’

একদিনও ব্যানার ধরেননি- এমন ব্যক্তিকেও বড় নেতা বানানো হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ করে বলছি, কমিটিতে এমন একজনকে বড় পদে বসানো হয়েছে, যিনি কখনো ব্যানার পর্যন্ত ধরেননি। পারিবারিক ধারার রাজনীতি থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারেনি। লবিং আর পরিবারের প্রভাবে নেতা হয়েছেন তিনি। অথচ আমরা উপেক্ষিত।’

কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ভরসা রাখতে চান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ভরসা রাখছি। তারা এ বিষয়ে ভালো কোনো পদক্ষেপ নেবেন আশা করছি। না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, আমরা সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে পারি।’

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি জুবায়ের রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্যি নয়। আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে পারিবারিক আধিপত্যের মাধ্যমে পদ নেওয়ার যে অভিযোগ এসেছে তাও সত্য নয়।’

ছাত্রলীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কট্টরপন্থী ছাত্রদল হিসেবে পরিচিত ছিলাম। তখনকার সময়ে আমি একটা কমিউনিটির দায়িত্বে ছিলাম। সে সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আমার যে ছবি ছিল সেগুলো নিয়ে ফ্রেমিং করা হচ্ছে।’

এসব বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশেকুজ্জামান প্রীতম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আংশিক কমিটি হওয়ায় অনেককে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদের মূল্যায়ন করা হবে।’ দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় থেকে এবং পারিবারিক প্রভাবে পদ পওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই মোটামুটি দলের সঙ্গে কমবেশি সক্রিয় ছিল। যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলের পদায়নের বিষয়ে আমি কারও কাছে কোনো সুপারিশ করিনি। মানুষের বলার বা অভিযোগ করার অধিকার আছে, তারা করতে পারে। তবে সুপারিশের বিষয়টি সত্য নয়।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর