Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও মাদুরোকে তুলে নেওয়ায় বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩০ | আপডেট: ৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৩

ছবি: গেটি ইমেজেস

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটকের নিন্দা ও সমর্থনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বজুড়ে নেতারা। খবর বিবিসির

রোববার (৪ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হামলার পর, মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে মার্কিন বাহিনী আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেয়। নিউ ইয়র্কে এই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেশী ল্যাটিন আমেরিকান দেশগুলো এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার দীর্ঘ দিনের মিত্র রাশিয়া এবং চীন এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। চীন বলেছে, তারা একটি সার্বভৌম দেশ এবং তার রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে ‘গভীরভাবে মর্মাহত’ এবং তারা এই আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে।

বিজ্ঞাপন

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে আনার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেছে চীন। সেই সঙ্গে মাদুরো দম্পতিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটক করা এবং দেশ থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

রাশিয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে “সশস্ত্র আগ্রাসনের” অভিযোগ এনেছে।

ইরান এই হামলাকে ‘দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ‘চালাবে’। তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত আমরা দেশটি পরিচালনা করব।’

অনেক ল্যাটিন আমেরিকান নেতা মার্কিন পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন।

ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন যে এই পদক্ষেপ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন করে আক্রমণ করার মানে হলো বিশ্বকে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো এই হামলাকে ল্যাটিন আমেরিকার ‘সার্বভৌমত্বের উপর আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে চিলির রাষ্ট্রপতি গ্যাব্রিয়েল বোরিক ‘উদ্বেগ ও নিন্দা’ প্রকাশ করে ‘দেশকে প্রভাবিত করে এমন গুরুতর সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের’ আহ্বান জানিয়েছেন।

কিউবার রাষ্ট্রপতি মিগুয়েল ডিয়াজ-কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপরাধমূলক আক্রমণের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

অন্যদিকে উরুগুয়ে একটি সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গভীর মনোযোগ এবং উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সবসময়ের মতো সামরিক হস্তক্ষেপ কে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবা এই অঞ্চলে একটি বৃহত্তর মার্কিন নীতির অংশ হতে পারে একই সঙ্গে তিনি এটিকে একটি ব্যর্থ জাতি বলে অভিহিত করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে কিউবা একটি দুর্যোগ যা মাদুরোর প্রশাসনকে সমর্থনকারী অযোগ্য নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয় ।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং দেশের নেতৃত্ব এবং সামরিক বাহিনীর উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনি বলেছেন,সারা বিশ্বকে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। খবর রয়টার্সের।

কিন্তু আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি জাভিয়ের মাইলি, যাকে ট্রাম্প ‘প্রিয় রাষ্ট্রপতি’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন – তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্বাধীনতা দীর্ঘজীবী হোক’ লিখে পোস্ট করেছেন।

তবে ভেনেজুয়েলার এই হামলা নিয়ে প্রাথমিক এক বিবৃতিতে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার বলেছেন, তার সরকার মাদুরোর শাসনের পতনের জন্য ‘কোনও চোখের জল ফেলবে না’।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর