Tuesday 28 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

‘স্বাস্থ্যখাত মেরামতে বাজেট ৫ গুণ বাড়ানো হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪২ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩২

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে এই ভেঙে পড়া সিস্টেম মেরামতের চ্যালেঞ্জ সরকার গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের বাজেট পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে গুলশানের হোটেল সিক্স সিজনে সাইটসেভার্স ও পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গিল্ডান অ্যাকটিভওয়্যার-এর যৌথ উদ্যোগে ‘কমপ্রিহেনসিভ আই কেয়ার সার্ভিসেস’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে হেলথ সেক্টরে যে পরিমাণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এই ব্রোকেন সিস্টেমকে জোড়া লাগানো এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে যে বাজেট বরাদ্দ হয়, সক্ষমতার অভাবে তার পুরোটা অনেক সময় খরচ করা সম্ভব হয় না। এই সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি।’

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন অন্ধত্ব নিবারণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ড. এম এ মুহিত অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, ‘আমি সারাজীবন ব্লাইন্ডনেস প্রিভেনশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই আয়োজনে আসতে পারা আমার জন্য নতুন পরিচয়ে পুরনো আত্মীয়ের কাছে আসার মতো আনন্দ ও সমাদরের।’

ঢাকার সাভারের পাথালিয়া ও ধামসোনা ইউনিয়নের পোশাক শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই চক্ষুসেবা প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। গিল্ডান অ্যাকটিভওয়্যার-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় চোখের স্ক্রিনিং, ছানি অপারেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া, স্কুলভিত্তিক চক্ষুস্বাস্থ্য কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল ধারায় ফেরানোর আহ্বান

প্রতিমন্ত্রী সাইটসেভার্স ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে ড. মুহিত বলেন, ‘শুধু আই কেয়ার নয়, আমাদের নজর দিতে হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের ওপর। সাভারের ওই দুই ইউনিয়নে কয়েক হাজার প্রতিবন্ধী শিশু থাকতে পারে। তাদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সঠিক থেরাপি দিতে পারলে তাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের খুঁজে পাওয়া সহজ, শুধু প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ ও ফিজিওথেরাপি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দৃষ্টি সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। আর এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ তিনি আইএনজিও ফোরাম ও সাইটসেভার্সকে তাদের দীর্ঘ ২৫ বছরের নিষ্ঠা ও সততার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং অন্যান্য পোশাক শিল্প মালিকদের গিল্ডানের এই মডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম এম কাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মহসীন, বাংলাদেশে সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃত রেজিনা রোজারিও, গিল্ডান অ্যাকটিভওয়্যার ইনকরপোরেটেড-এর ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মি. ডেভিড চার্লস পেৎজারসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি, বিজিএমইএ, চেম্বার অব কমার্স এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওর প্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর