Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

হাসিনা পরিবার ও ১০ গ্রুপের ৭৬ হাজার কোটি টাকা অবরুদ্ধ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:৫৯ | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৭

হাসিনা পরিবার

ঢাকা: বহুল আলোচিত ১০ গ্রুপ ও হাসিনা পরিবারের পাচার হওয়া ৭৬ হাজার কোটি টাকা অবরুদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে দেশে অবরুদ্ধ হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বাকী অর্থ অবরুদ্ধ হয়েছে বিদেশে।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ তথ্য জানান বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ মামুন।

তিনি জানান, তাদের ১১টি ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি শেষ। বছর শেষে সিভির মামলায় অর্থ ফেরা শুরু হবে। গত অর্থবছরে প্রায় ৩১ হাজার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

১০ গ্রুপ হলো— এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন (এসটিআর) এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের (এস‌এআর) প্রতিবেদন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৮০ শতাংশ বেশি।

সেখানে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫টি সন্দেহজনক প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টিতে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল, সেখানে ৪ বছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা প্রায় ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, যা ২০১৫ সালে সংশোধিত হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুযায়ী রিপোর্টিং সংস্থাগুলো সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিল করতে আইনগতভাবে বাধ্য। কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন কিংবা কার্যক্রম শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিলম্ব না করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহজনক আচরণ শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও বাজি, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন এবং ডিজিটাল হুন্ডির মতো সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম বাড়ায় এসব লেনদেনের ওপর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলে দেশের ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে। গত তিন অর্থবছরে মোট প্রতিবেদনের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ব্যাংকগুলো থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৫ হাজার ৯৯১টির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ হাজার ৮০৯টি প্রতিবেদনের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে, এটি ব্যাংক খাতে কঠোর নজরদারি, উন্নত লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির ইতিবাচক প্রতিফলন।

অন্যদিকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ১২১টি থেকে বেড়ে ২৫০টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদন ৯০০টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৫টিতে উন্নীত হয়েছে। তবে মোট প্রতিবেদনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের অংশ যথাক্রমে প্রায় ১ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর