Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

রাবির সাংবাদিকতা বিভাগে সর্বোচ্চ সিজিপিএ প্রাপ্তদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৪ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:৪২

রাবির সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান।

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ‘সাংবাদিক আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান মিলন শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতি বছর বিভাগের ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ বর্ষের সর্বোচ্চ সিজিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পাবেন ৭ হাজার ২০০ টাকা।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের ১২৩ নম্বর কক্ষে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার এবং ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাধবী রাণী রায় শিক্ষাবৃত্তি লাভ করেন।

শিক্ষাবৃত্তি নিচ্ছেন রাবি শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার

শিক্ষাবৃত্তি নিচ্ছেন রাবি শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার

শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কার্যক্রমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের কন্যা অদিতি রহমান বলেন, ‘এই শিক্ষাবৃত্তি ঢাকায় দেওয়া যেত। কিন্তু আমি চিন্তা করেছি, ঢাকার বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন, কারণ ঢাকায় শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। সে কারণেই অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডের মধ্যস্থতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে এই শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছি। আজকের এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

বিজ্ঞাপন

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে বলেন, ‘আমার সবসময়ই চেষ্টা থাকে কীভাবে আমার বিভাগের উপকার হবে। সেই প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম সম্ভব হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য আমি সাংবাদিক আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল বকুলের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি আরও বলেন, আজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ সাংবাদিক আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে আনন্দ প্রকাশ করছে। আমি আশা করি, এই শিক্ষাবৃত্তি আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী ও উৎসাহিত করবে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘এই দুজন সাংবাদিক রাজশাহী ইউনিভার্সিটির সাথে একমাত্র একটা বন্ধনে শুধু সম্পৃক্ত, সেটা হলো সাংবাদিকতা, কারণ তারা সাংবাদিক। আর এখানে এই বিভাগে যারা পড়ালেখা করছে তারা আসলে সাংবাদিকতা শিখতে এসেছে। তো উনি বেছে নিয়েছেন যে সাংবাদিক যারা আগামী দিনের সাংবাদিক হতে যাচ্ছে তাদেরকে একটু মোটিভেট করার জন্য ইন্সপায়ার করার জন্য উনার দুজন বাবা এবং চাচার নামে যে স্কলারশিপটি দিয়েছেন এটি আসলে অসাধারণ একটি ঘটনা। আমি সত্যি উনাকে, উনার পরিবারকে প্রতি কৃতজ্ঞতা জানা জানাচ্ছি, ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় বিভাগ চাইলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। নানা ধাপ অতিক্রম করে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এসব কারণেই দীর্ঘ আট বছর এই শিক্ষাবৃত্তি চালু করা যায়নি। অবশেষে আজ এটি বাস্তবায়িত হওয়ায় বিভাগ আনন্দিত।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ঐকান্তিক সহযোগিতা বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

উক্ত শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার এবং আতিকুর রহমান। এছাড়াও বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক আহমেদুর রহমান ও হাবিবুর রহমান মিলন ছিলেন দেশের সংবাদপত্র জগতের দুই দিকপাল ও সহোদর। ষাটের দশকের প্রথিতযশা সাংবাদিক আহমেদুর রহমান দৈনিক ইত্তেফাকে ‘ভীমরুল’ ছদ্মনামে তীক্ষ্ণ লেখনীর জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তার ছোট ভাই একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন দৈনিক ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের অন্যতম অভিভাবক ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় নিবেদিত এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই শিক্ষাবৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর