Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে রাবি ছাত্র শিবিরের মানববন্ধন

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০০

রাবি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও শাকসু বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ছাত্রশিবিরে নেতাকর্মীদের, ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘হাইকোর্ট না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘শাকসু চাই, দিতে হবে, দিতে হবে, দিতে হবে’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম বলেন, ‘আজকে শাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু একটি গোষ্ঠী তারা ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে ভয় পেয়ে হাইকোর্টের মাধ্যমে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এর আগে তারা ডাকসু, রাকসু ও অন্যান্য ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো বন্ধ করার পাঁয়তারা করেছিল।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, ‘তারা নির্বাচনের মাঝপথে এসে বয়কট করে নির্বাচন বানচালের ও চেষ্টা করেছিল। আমরা এবারও দেখতে পাচ্ছি শাকসু নির্বাচন যখন শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে আবারও তারা একটি নাটকের মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করছে। আমরা তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আপনারা টেম্পো স্ট্যান্ড দখল বন্ধ করেন, আপনারা টেন্ডারবাজি বন্ধ করেন, তাহলে আর ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভয় পেতে হবে না।’

শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করলাম, যেই নয় দফার ভিত্তিতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ ছাত্র জনতার নেতৃত্বে যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ইন্ডিয়ায় পালাতে বাধ্য হয়েছিল। সেই নয় দফার অন্যতম একটি দফা ছিলো ক্যামপাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা। কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী সময়ে যখন ক্যামপাসগুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হলো, তখন প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল এবং তাদের ফাদার সংগঠন বিএনপি একের পর এক ছাত্রসংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি রাকসুর সময়ও তারা বারবার নির্বাচন স্থগিত করে লন্ডনের ষড়যন্ত্রে পা দিয়েছিলো। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের মুখে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিল। সর্বশেষ তারা শাকসু নির্বাচন বন্ধের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, ঢাকার টোকাই ও সন্ত্রাসীদের সাথে করে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে মব সৃষ্টি করে কোর্টকে ব্যবহার করে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছে। এতে তারা শিক্ষার্থী ভোটাধিকারে নগ্ন হস্তক্ষেপ করার মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত করেছে, তারা নতুন করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, অনতিবিলম্বে শাসক নির্বাচন কার্যকর করতল হবে এবং সেটি জাতীয় নির্বাচনের আগেই করতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও রাকসু’র ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন হাইকোর্টকে ব্যবহার করে স্থগিত করার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা আবার নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চাই। আপনারা এই নির্বাচনগুলো পিছানোর জন্য প্রথম থেকেই লেগেছিলেন, সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ বুঝে গিয়েছে এই নির্বাচন গুলো কারা পিছাতে চাই, কারা এইদেশে নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম দিতে চাই। এই ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলো বারবার পেছানোর পাঁয়তারা চালিয়ে ও আপনারা সফল হতে পারেন নাই। আপনারা বলেছিলেন দেশনেতা আসবে, তারপর ছাত্রসংসদ নির্বাচন কে করে সেটা আমরা প্রমাণ করে ছাড়বো। কিন্তু আপনাদের দেশনেতা আসার পরও জকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররা প্রমাণ করে দিয়েছে আর কোনো ফ্যাসিস্ট নেতার অবস্থান হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি এক ছাত্রদল নেতা শাকসু নির্বাচন চাওয়ার কারণে বহিষ্কার হয়েছে, এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল প্রমাণ করেছে যারা শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে রাজনীতি করতে চাইবে তাদের জন্য এই ছাত্রদল উন্মুক্ত জায়গা হিসাবে পরিগণিত হবে না। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাতে চাই, অনতিবিলম্বে শাকসু নির্বাচন হতে হবে, এবল সেটা জাতীয় নির্বাচনের আগেই হতে হবে।’

মানববন্ধন সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদি হাসান। মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন বিভাগ, হল, অনুষদ ও থানা শাখার বিভিন্ন পযার্য়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ও অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশের ক্যাম্পাসসমূহে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর