Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা করত আরিফ মাইনুদ্দিন: ডিবি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫১ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ২২:৪৩

গ্রেফতার প্রতারক আরিফ মাইনুদ্দিন ওরফে ডা. আরিফ মহিউদ্দিন চৌধুরী।

ঢাকা: নিজের পরিচয় গোপন রেখে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে আরিফ মাইনুদ্দিন ওরফে ডা. আরিফ মহিউদ্দিন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি প্রতারণা করে আসছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন তথ্য ও বিভিন্ন নথি যাচাই করে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কখনও ‘ডক্টর আরিফ মহিউদ্দিন’, কখনও ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী’ পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার কাহারিকা গ্রামে। গতকাল শনিবার ডিবি সিটিটিসি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা দাবি করে ভিজিটিং কার্ড তৈরি ও ব্যবহার করতেন।

বিজ্ঞাপন

শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামে ভুয়া সিল-স্বাক্ষর ব্যবহার করে জাল গেজেট প্রজ্ঞাপন তৈরি করেন। প্রকৃত সরকারি গেজেট সম্পাদনা করে সেখানে নিজের নাম ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা’ হিসেবে যুক্ত করে বিভিন্ন দফতরে পাঠাতেন।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করে সরকারি মনোগ্রাম ও বিভিন্ন মন্ত্রী-উপদেষ্টার নাম ব্যবহার করে নিজেকে সদস্য সচিব পরিচয় দিতেন। সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান দাবি করতেন। এছাড়া তিনি নিজেকে প্রতিমন্ত্রী দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেন এবং এক হাজার কোটি টাকার ঋণ চাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার নামের আগে ব্যবহৃত ‘ডক্টর’ ও ‘চৌধুরী’ উপাধির কোনো বৈধতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃত নাম আরিফ মাইনুদ্দিন হলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচয় দিতেন।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এর আগেও প্রতারণার মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে চকরিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এছাড়া সাইবার প্রতারণার একটি মামলায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন। তার মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে কাদের কাছে ভুয়া গেজেট ও চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে তা শনাক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর