Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

বাক প্রতিবন্ধী নারীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, পলাতক কথিত স্বামী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৪ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৬

চন্দনাইশ থানা। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় বাক প্রতিবন্ধী এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর তাকে ফেলে পালিয়ে গেছে কথিত স্বামী। মৃত নারীকে তড়িঘড়ি করে দাফনের আয়োজনের মধ্যে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, ওই ব্যক্তির শারীরিক নির্যাতনে নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জামিরজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, মৃত বাক প্রতিবন্ধী নারী সালমা বেগমকে (২৬) পূর্ব জামিরজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল হুদা পারভেজ (৩০) স্ত্রী পরিচয় দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে নিজের ঘরে এনে রাখেন। তবে ওই নারীর বাড়ি কোথায়, নুরুল হুদার সঙ্গে তিনি কীভাবে এসেছেন, আদৌ তাদের বিয়ে হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা অবগত নন। পুলিশও তাদের বিয়ের কোনো প্রমাণপত্র খুঁজে পায়নি। তবে নুরুল হুদা ও সালমার ঘরে চার সন্তান আছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সালমা একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন।

বিজ্ঞাপন

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘সকালে ট্রিপল নাইনে আমাদের কাছে তথ্য আসে যে, এক নারীকে হত্যার পর তার মরদেহ গোপনে তড়িঘড়ি করে দাফনের চেষ্টা চলছে। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করি। এ সময় সালমার মুখে ও শরীরে জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। আমাদের ধারণা আজ (সোমবার) ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে সালমার মৃত্যু হয়েছে।’

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি বলেন, ‘রাতে নুরুল হুদা ঘরেই ছিলেন। সকালে তার মা গোলতাজ বেগম সালমার ঘরে গিয়ে দেখেন বিছানার ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। ছেলেকে না পেয়ে তিনি বিষয়টি বড় ও মেঝ ছেলেকে জানান। তারা এসে সালমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। তারা মৃত সালমাকে দ্রুত দাফনের জন্য গোসল করাচ্ছিলেন। এসময় আমাদের টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।’

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল হুদা মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে প্রকৃতির। প্রায়ই বিভিন্ন মাজারে ঘুরে বেড়ান। মাঝে মাঝে দিনমজুরের কাজ করেন। চুরি করতে গিয়ে একাধিকবার এলাকায় ধরাও পড়েছেন। সালমাকে প্রায়ই মারধর করতেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর পল্লী চিকিৎসক সালমা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন জানিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু নুরুল হুদা কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেননি। এতে সালমা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মৃত সালমার পৈতৃক কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি ইলিয়াস খান বলেন, ‘নুরুল হুদা কোন এক মাজার থেকে বাক প্রতিবন্ধী সালমাকে বিয়ে করেছে জানিয়ে বাড়িতে আনেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তার বাবার বাড়ির ঠিকানা কিংবা আত্মীয়স্বজনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। আমাদের ধারণা, নুরুল হুদার মারধরের কারণেই অসুস্থ সালমার মৃত্যু হয়েছে। এরপর সে পালিয়ে গেছে। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’

এদিকে গ্রামের লোকজন পুলিশের অভিযোগ করেছেন, নুরুল হুদা তাদের দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে গেছেন।

তবে তার মা গোলতাজ বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, বড় সন্তানকে তিনি লালনপালন করছেন। অভাবের কারণে দুই শিশু সন্তানকে তাদের দুই স্বজন তাদের ঘরে রেখে লালনপালন করছেন।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর