Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

চিন্ময়কাণ্ডে আইনজীবী খুন / মামলা গেল জজ আদালতে, বাবার দাবি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৭ | আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২৮

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর আদালতে হাজিরা নিয়ে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আলিফের বাবা মামলাটির বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন মামলার শুনানিতে মামলার বাদী নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামলার নির্ধারিত শুনানির দিনে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সেটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ এসেছে। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। মহানগর দায়রা জজ আদালত অথবা অধীনস্থ অন্য কোনো আদালতে এখন মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে বিচার সম্পন্নের আবেদন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি আবেদনটি পৌঁছে দেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন আবেদন গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে এপিপি রায়হানুল ওয়াজেদ জানান।

নিহত সাইফুল ইসলাম আলিফের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি খুনের শিকার হন।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত সংগঠক ও সনাতনী জাগরণ জোট নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে ত্রাস সৃষ্টি করে চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিনঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখে তারা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালী এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত প্রাঙ্গনের অদূরে নগরীর বাণ্ডেল সেবক কলোনির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। চলতি বছরের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এরপর ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানিতে আদালত মামলা থেকে একজন আসামির অব্যাহতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ নাকচ করেন। এর ফলে এখন ওই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ৩৯ জন।

চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।

এপিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন এখনো পলাতক আছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর