Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

ছুটির শেষ বিকেলে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩০ মে ২০২৬ ২০:৪৩ | আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ২৩:৫৬

ছুটির শেষ বিকেলে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির আমেজ শেষ হতে চলেছে। সোমবার (৩১ মে) থেকেই ফের চিরচেনা ব্যস্ততায় ফিরবে নগরবাসী, খুলবে সরকারি অফিস-আদালত। ঈদের ছুটির এই শেষ মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি করে রাখতে এবং পরিবারের সঙ্গে কিছুটা আনন্দঘন সময় কাটাতে রোববার (৩০ মে) রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঢল নেমছিল দর্শনার্থীদের।

মূলত দুপুরের পর থেকেই মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান এবং শ্যামলীর শিশু মেলার মতো স্পটগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। তীব্র গরম উপেক্ষা করেই পরিবার, পরিজন আর বন্ধুদের নিয়ে মেতে উঠেছেন সবাই।

বিশেষ করে ছুটির শেষ দিনে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি স্টেশন এবং ওয়াটার বাসের কাউন্টারগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। লেকের পাড়ে বসে ফুচকা-চটপটি খাওয়া আর হালকা বাতাসে গল্পে মেতে ওঠার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদপুর থেকে সপরিবারে হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘কাল থেকেই আবার সেই চেনা জ্যাম আর ফাইলের স্তূপের মাঝে ডুবে যেতে হবে। তাই ছুটির শেষ বিকেলটা ঘরে বসে নষ্ট করতে চাইনি। বাচ্চাদের নিয়ে একটু খোলা বাতাসে এলাম। ওরা বেশ আনন্দ করছে, এটাই তৃপ্তি।’

একই চিত্র দেখা গেছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। ঈদের এই ক’দিন যারা ঢাকায় ছিলেন, তাদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল চিড়িয়াখানা। বিশেষ করে খাঁচাবন্দি বাঘ, সিংহ আর সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া অ্যালবিনো মহিষটিকে (ডোনাল্ড ট্রাম্প) দেখতে শিশুদের কৌতূহল ছিল সবচেয়ে বেশি।

সাভার থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসা শিরিন আক্তার সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঈদের দিন মেহমানদারী আর রান্নাবান্না নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। ঢাকার বাইরে যাওয়া হয়নি। কাল থেকে স্কুল-কোচিং আর হাজব্যান্ডের অফিস শুরু হয়ে যাবে। তাই আজ কষ্ট করে হলেও বাচ্চাদের নিয়ে বের হয়েছি। ভিড় অনেক বেশি, তবে বাচ্চাদের মুখের হাসি দেখে ভালোই লাগছে।’

এদিকে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়ায় একটু শান্তির খোঁজে অনেকেই বেছে নিয়েছেন চন্দ্রিমা উদ্যান কিংবা রমনা পার্ক। বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসে বসে চাদর বিছিয়ে অনেক পরিবারকে ঘরোয়া খাবার শেয়ার করতে দেখা গেছে। উত্তরা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী আবির হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বন্ধুরা মিলে ঈদের পর এক হতে পারছিলাম না। আজ ছুটির শেষ দিন, তাই সবাই মিলে এখানে চলে এলাম। অনেকদিন পর সবাই একসঙ্গে আড্ডা দিয়ে খুব ভালো একটা সময় কাটল।’

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে যখন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঝলমলে বাতি জ্বলে ওঠে, তখন যেন উৎসবের রঙ আরও উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। চারদিকে ক্যামেরার ক্লিকের শব্দ, প্রিয়জনদের সঙ্গে প্রাণখোলা হাসি আর খুনসুঁটিতে মুখর এই বিকেল মনে করিয়ে দেয়, ক্লান্তিহীন যান্ত্রিক জীবনের মাঝে এই আনন্দটুকু আমাদের কতটা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর