Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি, অযাচিত যানজটে ভোগান্তি চরমে

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৬ ২২:২৫ | আপডেট: ৮ মার্চ ২০২৬ ০০:০১

রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত দু’দিন ধরে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকার বলছে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। তারপরও জ্বালানি কিনতে গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আর পাম্পগুলো রাস্তাসংলগ্ন হওয়ায় সড়কের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনগুলো যানজট তৈরি করছে। এই অযাচিত যানজটে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী, বিজয় সরণি, আসাদ গেট, শ্যামলী, শেওড়া পাড়া, মিরপুর-২, তেজগাঁও, মৎস্যভবন মোড়সহ বেশ কয়েকটি পেট্টোল পাম্প ঘুরে গাড়ি নিয়ে মানুষের দীর্ঘ সারি ও যানজটের চিত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

মিরপুর-২ নম্বরে সনি সিনেমা হলের বিপরীত পাশে স্যাম অ্যাসোসিয়েটস পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পের দুই দিক থেকেই সারি সারি মোটসাইকেল আরোহী দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের কেউ এক ঘণ্টা, আবার কেউ দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এত সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর তেল পাবেন মাত্র দুই লিটার।

কল্যাণপুরের খালেক পেট্টোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। কেন এত তেল লাগছে? জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘তেল না নিয়ে যেতে পারছি না। কারণ, গাড়ি আর চলছে না। গতকালও দুই ঘণ্টা থাকার পর তেল নিতে পারিনি। আজ আবার আসছি। এখন কী হবে জানি না।’ এর মধ্যেই কেউ পরে এসে আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকের সঙ্গে এখানে ঝগড়া থেকে মারামারি পর্ন্ত হয়ে গেল।

মৎস্যভবন মোড়ের পাম্পের আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়। বিশেষ করে ইফতারের আগে এই যানজট শুরু হয়ে ইফতারের পরেও শেষ হয়নি। ফলে এই অযাচিত যানজটে পড়ে সাধারণ মানুষরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণ চায় তারা। বিশেষ করে ইফতারের আগে তেল দেওয়া বন্ধ অথবা গাড়ি যেন সড়কে না আসে এমনটাই চাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

কেন এত দীর্ঘ সারি? আগে তো এরকম দীর্ঘ সারি ছিল না? জানতে চাইলে পাম্পগুলোর কর্মচারীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দেড় থেকে দুই গুণ বেশি যানবাহন তেল নিতে আসছে। অনেক চালক সরাসরি ফুল ট্যাংক নিতে চাইছেন। এতে প্রতিটি গাড়িতে তেল দিতে বেশি সময় লাগছে এবং লাইনে চাপ বাড়ছে।

ঢাকার যানজট কয়েকদিনের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো তেল নেওয়ার গাড়িগুলো সড়ক বন্ধ করে দাঁড়াচ্ছে। এতে পুলিশও হিমশিম খাচ্ছে। জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. সরওয়ার (অতিরিক্তি দায়িত্ব) বলেন, ‘বাইকাররা যাতে তেল নেওয়ার জন্য সড়কে না দাঁড়ায়, সেই চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। যানজট নিরসনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে চট্টগ্রামের তেলের পাম্পগুলোতেও জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। এর কারণ একটাই, ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তেল নিতে চায় সবাই। চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ফিলিং স্টেশনের অপারেটর সেলিম উল্লাহ সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে জানান, ‘তাদের কাছে তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং দামও বাড়েনি। তবু আতঙ্কে মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছেন।’

পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।’ অযথা বেশি তেল কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘তেল সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তেলের সংকট হয়েছে বলা হচ্ছে- এটি ঠিক নয়।’

এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘তেল নিয়ে কোনো সমস্যা নাই। ইরান বাংলাদেশি কোনো জাহাজ আটকাবে না। এ ছাড়া, দেশে তেলের মজুদ নিয়েও কোনো সমস্যা নাই। দেশে এখনো ৩০ দিনের জ্বালানি তেল রয়েছে। আরও ১২টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করেছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই খালাস শুরু হবে।’

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর