Wednesday 29 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

নির্বাচন নয় যেন উৎসব, ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৩ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১১

ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। কমলাপুর রেলস্টেশন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: কোনো ধর্মীয় উৎসব বা ঈদ নয়, তবুও রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোর চিত্র দেখলে মনে হবে যেন দুয়ারে কড়া নাড়ছে কোনো উৎসব। মূলত একদিন বাদে-ই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখ লাখ মানুষ। কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবন থেকে ছুটি নিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এবং প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন তারা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়অরি) ভোর থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেল স্টেশন এবং সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে বাসের অপেক্ষায় থেকেও যাত্রীদের চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে আনন্দের ছাপই বেশি স্পষ্ট। একসঙ্গে লাখ লাখ ঘরমুখো হওয়ায় মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ফলে কোথাও কোথাও সড়কে গাড়ি চলাচলে ধীরগতি ও যানজটের সৃষ্টি হয়। আর ট্রেনে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নাই, ছাদেও ছিল ঘরমুখো যাত্রীতে পরিপূর্ণ। এ ছাড়া, বিকেলে রাজধানীর সদরঘাটেও ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। ছাদে চেপে ট্রেনযাত্রা। ছবি: সারাবাংলা

ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। ছাদে চেপে ট্রেনযাত্রা। ছবি: সারাবাংলা

কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সারা বছর কাজের চাপে বাড়ি যাওয়া হয় না। ভোট উপলক্ষ্যে কয়েক দিনের ছুটি পেয়েছি। নিজের ভোটটা নিজে দেব, পাশাপাশি বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাব- সব মিলিয়ে এটা আমার কাছে ঈদের চেয়ে কম কিছু নয়।’

গ্রামে যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালগামী আরমান সারাবাংলাকে জানান, রাজধানীর মিরপুরে একটি বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করেন তিনি। ভোট দেওয়ার জন্য পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। অনেক বছর পর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ভেবেই আনন্দিত তিনি।

রাজধানীর শ্যামলীতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন মাহমুদা বেগম। গাবতলী টার্মিনালে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। তবে কেন বাড়ি যাচ্ছেন এ বিষয়ে মাহমুদা সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্বামীর অফিস ছুটি ও বাচ্চাদেরও স্কুল বন্ধ। তাই ভাবলাম গ্রামের বাড়ি খুলনা গিয়ে ভোট দিয়ে আসি এবং ঘুরেও আসি।’ ভোটের আমেজে গ্রামে যেতে তার খুবই ভালো লাগছে জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। ছাদে চেপে ট্রেনযাত্রা। ছবি: সারাবাংলা

ভোট দিতে ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। ছাদে চেপে ট্রেনযাত্রা। ছবি: সারাবাংলা

এদিকে, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও সাধারণ ভোটারদের কাছে এটি যেন এক অঘোষিত উৎসব। গ্রাম-গঞ্জে প্রার্থীদের প্রচার, মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত পরিবেশের টানেই মানুষ ছুটছে শিকড়ের সন্ধানে। এতে ক্রমেই ফাঁকা হয়ে আসছে কোলাহলের নগরী ঢাকা। এমনকি প্রায় ৮০ ভাগ গণপরিবহণের সংখ্যা কমে গেছে রাজধানীজুড়ে। অন্যদিকে, প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলো। সব শঙ্কা ও ক্লান্তি ভুলে নাড়ির টানে এই বাড়ি ফেরা যেন গণতন্ত্রের এক স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন।

সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে বিশেষভাবে তৎপর থাকবেন। তবে এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সারাবাংলা/এমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর