Tuesday 28 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

অফিসেই সংসার পেতেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা!

শামীম সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ জুলাই ২০২৬ ২৩:৫২ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২৬ ১১:৪০

রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী: সপরিবারে অফিসেই সংসার পাতার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম বিরুদ্ধে। প্রশিক্ষণের ফ্রিজ ও অফিসের সিসি টিভির মনিটর ব্যক্তিগত টেলিভিশন হিসেবে ব্যবহার, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখিয়ে ভাতা উত্তোলন, অফিস না করাসহ নানাবিধ অভিযোগে জর্জরিত এই কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক হিসেবে যোগ দেন মো. শরিফুল ইসলাম। এর পর থেকেই সময় মতো অফিস না করার পাশাপাশি নানা অজুহাতে ২/৩ দিনের জন্য উধাও হয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে যোগদানের সময় থেকেই থাকছেন অফিসের উপর তলায় অবস্থিত অতিথিশালায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ফ্রিজ, অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর বেড রুমের টেলিভিশন হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়াও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিত দেখিয়ে ভাতা তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে ট্রেডগুলোর ইন্সট্রাক্টরদের ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে জানান, যোগদানের পর থেকে নিয়মিত অফিস করেন না শরিফুল ইসলাম। অধীনস্থদের রাখেন তটস্থ করে। এজন্য মুখ খুলতে সাহস পান না কেউ। অফিসে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘শরীফুল ইসলাম প্রায় আট মাস ধরে অফিসেই অবস্থান করছেন। এটাই এখন তার ঘর-সংসার। অথচ সরকারি অফিসে এভাবে থাকার কোনো নিয়ম নেই। শুধু তাই নয়, তিনি অফিসে বিভিন্ন সামগ্রী ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। তুলে নিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকাও।’

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে পাওয়া যায় অভিযোগের সত্যতা। পক্ষে-বিপক্ষেও মিলেছে নানা মতামত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রেড ইন্সট্রাক্টর সারাবাংলাকে বলেন, ‘অফিসে একটা গেস্ট হাউজ আছে। সেখানে উপ-পরিচালক স্যার থাকছেন। তবে আমি মনে করি উনার এখানে থাকার হক আছে।’

অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে মো. শরীফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি পরিবার নিয়ে যে বাসাতে থাকব সেটি এখনো প্রস্তুত হয়নি। তাই অফিসের উপরের রুমে আপাতত অবস্থান করছি। বাসা প্রস্তুত হলে সেখানে উঠব।’

তবে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ভাতা তুলে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অনুপস্থিত কোনো শিক্ষার্থীর ভাতা আমি তুলে নিচ্ছি না। কারও ভাতা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। আমি নিজেও জানতে চাই অফিস থেকে কারও ভাতা তুলে নেওয়া হচ্ছে কি-না। এ বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নেব। আপনাদেরও সহযোগিতা চাই।’

অপরদিকে রুমে ফ্রিজ ও টিভি না থাকায় অফিসের সিসিটিভির মনিটর এবং ফ্রিজ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলেও স্বীকার করেন শরীফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর