Tuesday 28 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

নীলফামারীতে জাল সনদে স্কুলের সভাপতি হওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৬ ২২:১৯

স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নাজমুল হুদা।

নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে জাল ডিগ্রি সনদ ব্যবহার করে বিএনপি নেতা মো. নাজমুল হুদাকে মনোনীত করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, তিনি যে ডিগ্রি সনদ জমা দিয়েছেন, ওই নামের কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য সংশ্লিষ্ট কলেজের রেকর্ডে নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নাজমুল হুদা। তবে স্থানীয়দের দাবি, এতদিন তাকে এইচএসসি পাস হিসেবেই জানতেন তারা। কিন্তু হঠাৎ করে ডিগ্রি পাসের সনদ দেখিয়ে সভাপতি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে বিষয়টি যাচাই করতে রংপুরের পীরগাছা সরকারি কলেজে যোগাযোগ করা হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, নাজমুল হুদা যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেছেন, সেই নম্বর অনুযায়ী তার নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই রোল নম্বরেও কলেজে কোনো শিক্ষার্থীর রেকর্ড নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাজমুল হুদাকে বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীতের পেছনে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. অজিবুল হক দুলুর যোগসাজশ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘কমিটি গঠনের সময় বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তাদের দলীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার চাপ ছিল। সে কারণে সভাপতি পদের জন্য জামায়াত থেকে একজন এবং বিএনপি থেকে দু’জনের নাম প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়। এ সময় মো. নাজমুল হুদা নিজেও জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হোক। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন এবং তার মাধ্যমেই আমার এই বিদ্যালয়ে নিয়োগ হয়েছিল। সেই বিবেচনায় তার অনুরোধ রক্ষা করেছি। তবে তখন আমার ধারণা ছিল, তিনি ডিগ্রি পাস করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমাকে চিনেন না? আমি এই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ডিগ্রি পাস না হলে কখনোই আমাকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হতো না। আমার সঙ্গে দেখা করেন, নিউজ করার প্রয়োজন নেই।’

রংপুরের পীরগাছা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোছা. মোরশেদা বেগম বলেন, ‘কলেজের সংরক্ষিত রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে, মো. নাজমুল হুদা যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করেছেন, সেই নম্বর অনুযায়ী তার নামে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই রোল নম্বরেও কোনো শিক্ষার্থীর রেকর্ড কলেজে নেই। সে কারণে উপস্থাপিত ডিগ্রি সনদটি জাল বা অসত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. আমিনুল হক বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী সভাপতি পদের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয় এবং সেটি দেখভাল করেন জেলা প্রশাসক। ওই তিনজনের মধ্য থেকে বোর্ডের চেয়ারম্যান একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেন। এখানে আমার সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ঘটনার সত্যতা থাকে তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দায়ী। কারণ তিনি তথ্য গোপন করে জেলা প্রশাসকের কাছে নামের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইন প্রয়োগে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উল্লেখ্য, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিমের মেয়াদও গত ৫ মার্চ শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর