Sunday 02 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English.

গ্রিক গডের রক্তে বাঙালির নদী বহমান!

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৯

রুপালি পর্দায় তিনি গ্রিক দেবতা— নিখুঁত চেহারা, শক্ত শরীর, চোখে আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি। কোটি ভক্তের কাছে তিনি শুধু হৃতিক রোশন। কিন্তু ক্যামেরার ঝলকানি একটু সরলেই দেখা যায় আরেক হৃতিককে— যার শরীরের ভেতর নীরবে বয়ে চলে এক টুকরো বাংলা, এক চিলতে কলকাতা, এক দাদির স্নেহমাখা স্মৃতি।

নতুন বছরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ছোট্ট বাক্যেই সেই সত্যটা আবার সামনে আনলেন হৃতিক। লিখলেন—
‘Maybe this is my 25% Bengali blood flowing.’

এই এক লাইনের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে প্রজন্ম পেরোনো এক আবেগ, শিকড়ের টান আর হারিয়ে না যাওয়া ভালোবাসার গল্প।

হৃতিকের বাঙালি পরিচয়ের সূত্রটা আসে তার দাদির হাত ধরে। ইরা রোশন—বিয়ের আগে ইরা মৈত্র। কলকাতার মেয়ে। বয়স তখন কুড়ির কোঠায়। চোখে গান শেখার স্বপ্ন, কণ্ঠে রেওয়াজের সাধনা। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার আশায় কলকাতা ছেড়ে পা রেখেছিলেন দিল্লিতে। সেখানেই ভাগ্যের সঙ্গে পরিচয়—সুরের জাদুকর রোশন লাল নাগরথ। সেই পরিচয় প্রেমে, আর প্রেম আজীবনের বন্ধনে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

ইরা শুধু একটি নাম নয়, রোশন পরিবারে তিনি ছিলেন এক আশ্রয়, এক শেকড়। পরিবারের সবাই তাকে দেখতেন বটগাছের মতো—ছায়া দেন, আগলে রাখেন। রাকেশ রোশনের ডাকনাম ‘গুড্ডু’ থেকে নাতির নাম রাখা ‘ডুগগু’— এই আদরের নামের মধ্যেও ছিল দাদির মমতা।

মুম্বাইয়ের কোলাহল, গ্ল্যামার আর ব্যস্ততার মাঝেও হৃতিকের শৈশবে ছিল এক টুকরো বাংলা। দাদিকে তিনি ডাকতেন ‘ঠামি’। পিয়ানো শেখা, ছন্দে চলা, শিল্পের প্রতি সহজ টান— সবকিছুতেই ছিল ইরা রোশনের ছোঁয়া। এমনকি খাবারের টেবিলেও। ভাতের সঙ্গে মাছের ঝোল— এই সাধারণ বাঙালি স্বাদই একসময় হয়ে উঠেছিল বলিউডের ভবিষ্যৎ সুপারস্টারের নস্টালজিয়া।

হৃতিকের জীবনে জানুয়ারি মাসটা যেন বিশেষভাবে লেখা। এই মাসেই তার জন্মদিন। এই মাসেই মুক্তি পেয়েছিল তার অভিষেক চলচ্চিত্র ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’, যা রাতারাতি তাকে সুপারস্টারে পরিণত করেছিল। কাকতাল নয়, তার জীবনের প্রথম মঞ্চ পরিবেশনাও হয়েছিল কলকাতায়— যেন শহরটা শুরু থেকেই তাকে চিনে রেখেছিল।

২০০৫ সালে দাদি ইরা রোশনের প্রয়াণ ঘটে। কিন্তু মৃত্যু কি আর স্মৃতিকে মুছে দিতে পারে? হৃতিকের চলনে, হাসিতে, শিল্পীসত্তায় আজও তিনি বেঁচে আছেন। বাঙালি সংস্কৃতির কোনো ছোঁয়া পেলেই নাকি হৃতিকের রক্ত চঞ্চল হয়ে ওঠে। সেই অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ তার সাম্প্রতিক পোস্ট।

এই স্বীকারোক্তি শুধু তার পরিচয়ের কথা নয়। এটা এক নাতির কণ্ঠে দাদির প্রতি ভালোবাসার নীরব শ্রদ্ধা। একজন আন্তর্জাতিক তারকা হয়েও নিজের শেকড়কে বুকের মধ্যে আগলে রাখার সাহসী ঘোষণা।

৫২ বছরে পা রেখেও হৃতিক প্রমাণ করে দিলেন—তারকা হওয়া মানে শিকড় ভুলে যাওয়া নয়। যত উঁচুতেই ওঠা হোক না কেন, মানুষের ভেতরে কোথাও না কোথাও একটা ঘরের আলো জ্বলে থাকে। হৃতিকের ক্ষেত্রে সেই আলোটা জ্বলে কলকাতার জানালায়, দাদির স্নেহে, আর বাঙালির রক্তের স্পন্দনে।

গ্রিক গডের শরীরে তাই শুধু পেশির শক্তি নয়— বয়ে চলে এক নদীর মতো আবেগ। সেই নদীর নাম, বাঙালিত্ব।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর